শাসনতন্ত্রে দিব্যাঙ্গদের অপরিহার্যতা: কৌটিলীয় অর্থশাস্ত্রের প্রেক্ষাপটে
Fuente:
Zenodo
Gespeichert in:
| 1. Verfasser: | |
|---|---|
| Format: | Recurso digital |
| Sprache: | Bengalisch |
| Veröffentlicht: |
Zenodo
2025
|
| Schlagworte: | |
| Online-Zugang: | |
| Tags: |
Tag hinzufügen
Keine Tags, Fügen Sie den ersten Tag hinzu!
|
| _version_ | 1866901614212677632 |
|---|---|
| author | Dr. Shampa Das |
| author_facet | Dr. Shampa Das |
| contents | <p><strong>Abstract: </strong>বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত দিব্যাঙ্গ শব্দটি প্রকৃতপক্ষে প্রতিবন্ধী শব্দের একটি পর্যায়বাচক শব্দ। মানুষের কোনো এক বা একাধিক অঙ্গের অস্বাভাবিকতাই প্রতিবন্ধকতা। আর এইরূপ প্রতিবন্ধকতার শিকার ব্যক্তিই সমাজে প্রতিবন্ধী বা দিব্যাঙ্গ বলে পরিচিত। একথা অস্বীকার করবার কোনো উপায় নেই যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের নিরিখে মানবসভ্যতা উন্নয়নের সুউচ্চ শিখর স্পর্শ করলেও, বহু ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার ব্যাপক অগ্রগতি প্রয়োজন। এদের মধ্যে একটি ক্ষেত্র অবশ্যই দিব্যাঙ্গ। আদ্যিকালের ধ্যানধারণার ওপর ভিত্তি করে সমাজ কখনো তাদের উপেক্ষা করে অপমানিত করে, আবার কখনো প্রয়োজনের অতিরিক্ত যত্নশীল হয়ে যেন বার বার স্মরণ করিয়ে দিতে চায়- তুমি পরাধীন, অসম্পূর্ণ। এই দুই মানসিকতাই সমানভাবে নিন্দনীয়। তবে পাশাপাশি এটিও উল্লেখ করতে হবে যে এই চিত্র সর্বদা ও সর্বত্র এক নয়। সমাজসংস্কারক ও নীতিনির্ধারকগণ দিব্যাঙ্গদের অনুকূলে বহু মহৎ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সেগুলির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছেন। ক্রমে দিব্যাঙ্গরা সমাজের বিভিন্ন স্তরে তাদের সৃজনশীলতার ও মেধার ছাপ রাখতে শুরু করেছে। মহাবিশ্বের চিরন্তন ধাঁধা সমাধানেও তারা অতিগুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। চিত্তাকর্ষক বিষয় হল, আমাদের প্রাচীন নীতিনির্ধারকগণও এক্ষেত্রে অতিআধুনিক মানোভাব ব্যক্ত করেছেন এবং তদুপযোগী নীতি প্রণয়ন করেছেন। রাজতন্ত্রে রাজার সুরক্ষাবিধানই সর্বপ্রথম করণীয়। কৌটিল্যের মতো দূরদর্শী নীতিকারও এই বিষয়ে দিব্যাঙ্গদের ব্যবহারের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তিনি অর্থশাস্ত্র-এর <em>বিনয়াধিকারিকম্‌</em>-এর <em>আত্মরক্ষা</em> নামক একবিংশ অধ্যায়ে দ্বিধাহীনভাবে নপুংসক, কুব্জ, বামন পুরুষদের রাজার সুরক্ষায় ব্যবহার করতে নিদান দিয়েছেন। আবার রাজান্তঃপুরের সুরক্ষাকার্যেও দিব্যাঙ্গদের ব্যবহারের উপদেশ দিয়েছেন। প্রাচীনকালে চরকে রাজার চক্ষু হিসেবে চিন্তা করা হত। চরের চোখ দিয়েই রাজা নিজের মিত্র ও শত্রু দুজনকেই জানতে, চিনতে এবং বুঝতে পারতেন। অতএব রাজ্যসুরক্ষায় চরেদের ভূমিকা সহজেই অনুমেয়। এইরকম ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ কাজেও শাস্ত্রকারগণ দিব্যাঙ্গদের ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা মুক্তকণ্ঠে ব্যাখ্যা করেছেন। নীতিনির্ধারকদের এই নিদান যে কতটা বাস্তবায়িত হয়েছিল তার নিদর্শন সংস্কৃত সাহিত্যে বিভিন্নভাবে বিধৃত রয়েছে। বর্তমান প্রবন্ধটি প্রাচীন শাস্ত্রকার ও সাহিত্যিকদের দ্বারা বপিত দিব্যাঙ্গদের প্রতি সমাজের ইতবাচক দৃষ্টিভঙ্গিগুলি পুনঃস্মরণের একটি সাধারণ প্রচেষ্টা। হয়তো প্রাচীনের গর্ভেই লুক্কায়িত আছে প্রশ্নহীন আধুনিকতার সারমন্ত্র। </p> |
| format | Recurso digital |
| id | zenodo_https___doi_org_10_5281_zenodo_18259499 |
| institution | Zenodo |
| language | ben |
| publishDate | 2025 |
| publisher | Zenodo |
| record_format | zenodo |
| spellingShingle | শাসনতন্ত্রে দিব্যাঙ্গদের অপরিহার্যতা: কৌটিলীয় অর্থশাস্ত্রের প্রেক্ষাপটে Dr. Shampa Das দিব্যাঙ্গ, চর, চারবৃত্তি, আত্মরক্ষা, বামন, কুব্জ। <p><strong>Abstract: </strong>বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত দিব্যাঙ্গ শব্দটি প্রকৃতপক্ষে প্রতিবন্ধী শব্দের একটি পর্যায়বাচক শব্দ। মানুষের কোনো এক বা একাধিক অঙ্গের অস্বাভাবিকতাই প্রতিবন্ধকতা। আর এইরূপ প্রতিবন্ধকতার শিকার ব্যক্তিই সমাজে প্রতিবন্ধী বা দিব্যাঙ্গ বলে পরিচিত। একথা অস্বীকার করবার কোনো উপায় নেই যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের নিরিখে মানবসভ্যতা উন্নয়নের সুউচ্চ শিখর স্পর্শ করলেও, বহু ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার ব্যাপক অগ্রগতি প্রয়োজন। এদের মধ্যে একটি ক্ষেত্র অবশ্যই দিব্যাঙ্গ। আদ্যিকালের ধ্যানধারণার ওপর ভিত্তি করে সমাজ কখনো তাদের উপেক্ষা করে অপমানিত করে, আবার কখনো প্রয়োজনের অতিরিক্ত যত্নশীল হয়ে যেন বার বার স্মরণ করিয়ে দিতে চায়- তুমি পরাধীন, অসম্পূর্ণ। এই দুই মানসিকতাই সমানভাবে নিন্দনীয়। তবে পাশাপাশি এটিও উল্লেখ করতে হবে যে এই চিত্র সর্বদা ও সর্বত্র এক নয়। সমাজসংস্কারক ও নীতিনির্ধারকগণ দিব্যাঙ্গদের অনুকূলে বহু মহৎ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সেগুলির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছেন। ক্রমে দিব্যাঙ্গরা সমাজের বিভিন্ন স্তরে তাদের সৃজনশীলতার ও মেধার ছাপ রাখতে শুরু করেছে। মহাবিশ্বের চিরন্তন ধাঁধা সমাধানেও তারা অতিগুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। চিত্তাকর্ষক বিষয় হল, আমাদের প্রাচীন নীতিনির্ধারকগণও এক্ষেত্রে অতিআধুনিক মানোভাব ব্যক্ত করেছেন এবং তদুপযোগী নীতি প্রণয়ন করেছেন। রাজতন্ত্রে রাজার সুরক্ষাবিধানই সর্বপ্রথম করণীয়। কৌটিল্যের মতো দূরদর্শী নীতিকারও এই বিষয়ে দিব্যাঙ্গদের ব্যবহারের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তিনি অর্থশাস্ত্র-এর <em>বিনয়াধিকারিকম্‌</em>-এর <em>আত্মরক্ষা</em> নামক একবিংশ অধ্যায়ে দ্বিধাহীনভাবে নপুংসক, কুব্জ, বামন পুরুষদের রাজার সুরক্ষায় ব্যবহার করতে নিদান দিয়েছেন। আবার রাজান্তঃপুরের সুরক্ষাকার্যেও দিব্যাঙ্গদের ব্যবহারের উপদেশ দিয়েছেন। প্রাচীনকালে চরকে রাজার চক্ষু হিসেবে চিন্তা করা হত। চরের চোখ দিয়েই রাজা নিজের মিত্র ও শত্রু দুজনকেই জানতে, চিনতে এবং বুঝতে পারতেন। অতএব রাজ্যসুরক্ষায় চরেদের ভূমিকা সহজেই অনুমেয়। এইরকম ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ কাজেও শাস্ত্রকারগণ দিব্যাঙ্গদের ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা মুক্তকণ্ঠে ব্যাখ্যা করেছেন। নীতিনির্ধারকদের এই নিদান যে কতটা বাস্তবায়িত হয়েছিল তার নিদর্শন সংস্কৃত সাহিত্যে বিভিন্নভাবে বিধৃত রয়েছে। বর্তমান প্রবন্ধটি প্রাচীন শাস্ত্রকার ও সাহিত্যিকদের দ্বারা বপিত দিব্যাঙ্গদের প্রতি সমাজের ইতবাচক দৃষ্টিভঙ্গিগুলি পুনঃস্মরণের একটি সাধারণ প্রচেষ্টা। হয়তো প্রাচীনের গর্ভেই লুক্কায়িত আছে প্রশ্নহীন আধুনিকতার সারমন্ত্র। </p> |
| title | শাসনতন্ত্রে দিব্যাঙ্গদের অপরিহার্যতা: কৌটিলীয় অর্থশাস্ত্রের প্রেক্ষাপটে |
| topic | দিব্যাঙ্গ, চর, চারবৃত্তি, আত্মরক্ষা, বামন, কুব্জ। |
| url | https://doi.org/10.5281/zenodo.18259499 |